শেখ হাসিনার ভাষণঃ ৩২ ভাঙ্গা,রাজনৈতিক হুমকি

প্রবল গণ ছাত্র জনতার-আন্দোলনের গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যায়।এর পর আওয়ামী নেতা কর্মি সমর্থকদের উপর শুরু হয় নারকীয় তাণ্ডব। আওয়ামীলীগের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়।বঙ্গবন্ধুর মুরাল, ৩২ সে আগুন, বঙ্গবন্ধুর পরিবরের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন।এমনকি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলের নামকরন করা হয়েছে। আওয়ামিলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য কিছু বিষয় অপরিহার্য ছিলো।আওয়ামিলীগের সময় ও বিভিন্ন ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্ত,এমন কি প্রচুর টাকা খরচ করে হলেও বিমানবন্দরে নাম পর্যন্ত পরিবর্তন করেছে।বিভিন্ন সময় জিয়ার মাজার ভাঙ্গার উদ্যোগ নিলেও সেটা করেনি। এছাড়া খালেদা জিয়াকে বাড়ী ছাড়া করেছে। এমনকি বিএনপিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছিলো।গণমাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রচারের উপরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিলো। সে সময়েও আওয়ামিলীগের সে সব কর্মকাণ্ড সমর্থন ছিলো না।

তবে আওয়ামীলীগের পতন অবধারিত ছিলো, সেটা হয়েছে ৫ ই অগাস্ট। হাসিনার পতনের সাথে সাথেই আওয়ামিলীগের কার্যক্রম থেমে যায়।তবে গতমাসে ফেব্রুয়ারী মাসব্যাপী নানান কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে রাজনৈতিক মাঠ আবার গরম হতে শুরু করে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলন আওয়ামীলীগের এসব কর্মসূচির বিরোধিতা করে পাল্টা কর্মসূচি গ্রহণকরে। যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ।কিন্তু সদ্য নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ৪ ফেব্রুয়ারী ঘোষণা করে,৫ তারিখ তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পলাতক হাসিনা লাইভে ছাত্রজনতা উদ্দেশ্য ভাষণ দিবেন।মূলত তখন খেকেই পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠে।ছাত্রজনতার উদ্দেশ্য শেখ হাসিনার ভাষণ প্রচারে বাধা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর, প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস ও অনলাইন একটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে বুলডোজার মিছিল অন্যতম।যার উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ীটি নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।এসময় এ বাড়ীটিকে স্বৈরাচারের তীর্থভূমি হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়।হাসিনার ভাষণের নির্ধারিত সময়ে আগেই বিপুল জনতা ৩২ নাম্বারে জড়ো হয়।প্রতিরোধ করতে সেনাবাহিনীকেও দেখা যায়।বিক্ষিপ্ত কিছু জনতা ৩২ নাম্বারে ঢুকে ভাংচুর করতে থাকে।সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে হাসিনার ভাষণের পরপরই সেনাবাহিনীর সামাল দিতে না পেরে পিছু হটে।এর পরেই ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধুর বাড়ীটি ভাঙ্গার কাজ পুরোদমে চলে,যা ৬ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।সেই সাথে হাসিনার বাসভবন সুধা সদনে,ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অনান্য কেন্দ্রীয় নেতাদর বাড়ী তেও অগ্নিসংযোগ করার খবর পাওয়া যায়।

বাড়ীঘর ভাঙ্গা, জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয় এটা বহু পুরাতন ঘটনা।অতীতে দেখেছি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার নামে একে অপরের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।এটাথেকে বাঙ্গালী জাতি আজও বেরিয়ে আসতে পারেনি। বরং এর মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে। খালেদা জিয়ার কথাই বলা যায়,এই আওয়ামিলীগ সরকার শেখ হাসিনা আমলেই, খালেদা জিয়াকে বাড়ীছাড়া হতে হয়েছিল। সেটাই একধাপ আগিয়ে এসে আজকে হাসিনার বাবার বাড়ী সাথে নিজের বাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।সে সময় অনেক আওয়ামী বিরোধীদের বাড়ী তে অগ্নিসংযোগ করা  হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে আজ আওয়ামী অনেক কেন্দ্রীয় নেতার বাড়ীতে বাড়ীতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে।

আমরা আমজনতা আমাদের কিছু বলার সাহস অথবা শক্তি কোনটাই নাই। আমরা শুধু দেখতে এসেছি সারা জীবন দেখতে দেখতে মরে যাবো। আওয়ামিলীগ যেমন স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি এমনভাবে তাদের পরাজয় হবে। যেখানে তারা মনে করেছিল তাদের বিরোধীদের তারা পঙ্গু করে দিয়েছে। এবারের ছাত্র জনতা ও তাদের সরকার আওয়ামিলীগকে নিশ্চিহ্ন করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে।সেই লক্ষে কার্যকর চলমান।কিন্তু আওয়ামিলীগকে কেউ চিনে না। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ ও পুরাতন রাজনৈতিক দল।এদের অনেক উত্থান পতনের ইতিহাস আছে।এরা বার বার খাদের কিনারা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে।এবারও আওয়ামিলীগ ঘুরে দাড়াবে তবে সময়টা একটু বেশী লাগবে মনে হয়।ধরেই নিলাম আওয়ামিলীগ যদি আরো ৫০-৬০ বছর পরেও ক্ষমতায় আসে তাহলে,এসব ভাঙা ভাঙ্গির প্রতিশোধ তারা নিয়েই ছাড়বে।মনে রাখতে হবে ৫০ বছর আগের ঘটনার বিচার যখন আওয়ামিলীগ করতে পেরেছে,যেখানে মৃত মানুষের বিচার পর্যন্ত হয়েছে। এবারের ঘটনা যে তারা ভুলে যাবে সেটা মনেকরা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। 

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন

 বিজ্ঞাপন 



https://rkmri.co/ST55TMpTEIM0/