views your Language

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১৮

আমি ও আমার এসএসসি ফলাফল

এস এস সি পাস করেছি আজ প্রায় ১১ বছর হতে চলছে।আজ এস এস সি র ফলাফল প্রকাশ হবে,এতো দিন পর আমার আবার সেই পৃর্বের স্মৃতি মনে পরেগগেল। ।সে কারনেই এখানে লেখা । ছোট থেকেই অনেক কষ্টে বড় হয়েছি ।বাবার কষ্টের সংসারে সাহায্য করতে সব সময় আমাদের পানের দোকানে বসে ছিলাম।ক্লাসে আমার উপস্থিতি ছিল হাতে গোনার মত।ছাত্র যে খুব একটা খারাব ছিলাম তাও কিন্তু নয়।অভাবের কারনে এই দশা।শুরু করছি ফরম পুরোনের দিন থেকে।দোকান থেকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় বাবাকে নিয়ে স্কুলে গেলাম ফরম পুরনের জন্য,ফরমপূরন করার আগে গনিত স্যার আমাকে , আব্বাকে,আমার চাচাকে (যিনি ঐ স্কুলের একজন স্টাফ),যে স্যারের আমি প্রিয় ছাত্র আর আমার ও প্রিয় শিক্ষক পন্ডিত স্যার কে , কম্পিউটার রুমে নিয়ে গেল । এখানেই বলেনেই অংকে খুব কাচা ছিলাম ,ক্লাস সেভেনের পর আর কোন পরীক্ষায় গনিতে পাস করতে পারি নাই।প্রাইভেট ও পরছিলাম ঐ স্যারের কাছে,পরছি বললে ভুল হবে শুধু ফাজলামি করেছি।মনে হয় সেই কারনে তিনি আমাকে সবার সামনে দাড় করিয়ে আপমান করলেন বাবা,চাচা রা মাথা নিচু করে শুনে গেলেন,আব্বাকে কোন দিন এরকম নিরহ বা হতাশ হতে দেখিনি।এই ভেবে খুব কষ্ট পেলাম,কার ও মূখের দিকে পর্যন্ত তাকাতে পারিনি।স্কুল থেকে বেরহরে সোজা শহরে গিয়ে একটা সামাধান নিয়ে এসে পুরা ৭২ ঘন্টা অংক করা,তারপর পরীক্ষা।এভাবে চলতে চলতে একসময় অংকে হিরো হয়ে গেলাম।অংক করতে করতে এক এক টা অংক ১০০ বারের অধিক করাহয়ে গেছে।এভাবে প্রতিটা অংক মুখস্ত হয়ে যায়।
সে সময় জীবনের প্রথম পরীক্ষার আগে পাড়া-প্রতিবেশী সবার কাছে দোয়া নেয়ার একটা অ-লিখিত নিয়ম ছিল।এর ধারাবাহিকতায় এলাকায় এক বড় ভাই,যে কিনা এলাকার নামকরা শিক্ষীত ছিলেন,তিনি টিউশনিও করাতেন।তার কাছে দোয়া নিতে গেলাম,কিন্তু তিনি মুখের উপর বলে দিলেন তার সবচেয়ে খারাব স্টুডেন্টের চেয়েও আমার রেজাল্ট নাকি খারাব হবে!এখানেই শেষ নয়।আমাদের অবস্থা এতটাই খারাব ছিল যে পরীক্ষার আগের রাতেও বই কেনা হয়েউঠে নাই।সে কারনেই পরীক্ষার ফাঁকে যে কয়েকদিন বন্ধছিল সে দিনগুলিতে দোকান করে বইয়ের টাকা বেড় করাও সম্ভব হয়ে উঠতো না।শেষ পযন্ত পরীক্ষার আগের রাতে খুব কষ্টকরে হলেও রাত ১০ টার আগে টাকা জোগাড় করে শহরে গিয়ে পরের দিনের
পরীক্ষার জন্য বই নিয়ে এসে সারারাত পড়ে তার পর সকালে পরীক্ষা!
ইংলিশ পরীক্ষার দিন আমি অনেক কিছুই কমন পাইনি।এতটাই চাপা স্বভাবের ছিলাম যে,পাশের কোন জনের কাছেও সাহায্য চাইতে দ্বিধাবোধ করেছিলাম।ভ্যাগিস আমার বেঞ্চের পাশের মেয়েটি সেটা বুঝতে পারে,আরও ভাগ্যভাল সেই মেয়েটিই সব কমন পেয়েছিল!সে আমাকে দেখার সুযোগ করেদিয়ে ইংলিশে পাস করতে সহয়তা করেছে।পরীক্ষা শেষে তার সাথে পরিচয় হয়ে জানতে পারলাম সেও গনিতে অনেক কাচা।আমি তাকে অভয় দিয়ে বল্লাম কোন বিষয় না হয়ে যাবে।যেদিন গনিত পরীক্ষা,সে দিন আমার প্রস্তুতি তুঙ্গে।সাধারন ভাবেই ভাল প্রস্তুতি থাকার কারনে এদিক-ওদিন তাকিয়ে সময় নষ্ট করার চাইতে প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথেই লিখতে শুরু করি।১ ঘন্টা যাওয়ার পর পাশের সেই মেয়েটিকে দেখলাম কলম চিবাতে।বল্লাম সমস্যা কি?সে জানাল কোন কমন পাইনি।হয়ত আমার মত সেও চাপা স্বাভাবের ছিল তাই হয়তো আগে বলেনি।সাথে সাথে খাতা খুলে দিলাম দেখে দেখে লেখার জন্য।কিন্তু যখন আমার ৬০ মার্কর্সের উত্তর করা প্রায় হয়ে আসছে।তখন তাকে দেখলাম কলম বন্ধ করে বসে আছে।আবার বল্লাম কি হয়েছে।সে কাদতে লাগলো আর বল্লো আমি অংকে ফেল করবো!দেখে দেখেও লিখতে পারছি না।তখন আমি কিছুটা অবাক হলাম,কেমন মেয়েরে বাবা দেখে দেখেও লিখতে পারেনা।কিছুক্ষন তার বিষয়ে চিন্তা করলাম,আর আমার ফরম পূরনের দিনের কথা মনে করলাম।সে দিন আমার জন্য আমার বাবা-চাচাদের অপমানিত হতে হয়েছে।সেও যদি ফেল করে তাহলে তার বাবা-মা ও অপমানিত বোধ করবে।এটা ভেবেই তার খাতাটা চাইলাম।আর আমার খাতাটা তাকে দিতে চাইলাম।কিন্তু সে ভয়ে দিতে চাইলো না।এক প্রকার জোড় করেই তার খাতাটা আমি নিলাম আর আমার খাতাটা তাকে দিয়ে দিলাম।খাতা নিয়েই এক এক করে সব অংক করে দিলাম।এদিকে আমার যে মাত্র ৬০ নম্বরের অংক করা হয়েছে,সেটা যখন মনে পরলো,তখন পরীক্ষার বাকি আর ৩০ মিনিট!তারাহুড় করে নিজের খাতা নিতে গিয়ে এক স্যাররে চোঁখে ধরা পরলাম।আত্নরক্ষর্থে সটামকরে এমন ভাবে দাড়ালাম,মনেহল আমি প্রচন্ড রাগ করেছি,হুজুর টাইপের স্যার হওয়ায় সাথে সাথেই খাতা দিয়ে দিল।
পরীক্ষা শেষে মহা টেশনে পরে যাই।রেজাল্ট খারাব হলে কি  কি করবো তা নিয়ে কত উদ্ভট চিন্তা ভাবনাই না করেছি।দিনের প্রায় সবসময় পরীক্ষায় নম্বর নিয়ে হিসেব করতে থাকি।কোন কোন সময় পাস নম্বর পাই আবার কোন কোন সময় পাস নাম্বারও হিসেব করতে পারি না।রেজাল্টের দিন যত এগিয়ে আসতে থাকে সে হিসেব ততোই বাড়তেই থাকে।
যে দিন পরীক্ষার ফলাফল দিবে সে দিন বাড়ী তে মন খারাব করে বসেছিলাম।সে বারেই প্রথম অনলাইনে রেজাল্ট নেয়ার পদ্ধতি চালু করে।মোবাইলে রেজাল্ট নিব তাই,মোবাইল হাতে বসেছিলাম।ইতোমদ্ধে সবার রেজাল্ট নেয়া হয়েগেছে কিন্তু আমারটা নাই।বারবার ম্যাসেজ দেয়ার পরও রেজাল্ট আসছে না!মনেমনে ধরোই নিলাম আমি ফেল করেছি।সবার জোড়াজুড়িতে রেজাল্ট নিতে বাধ্য হয়ে স্কুলে যেতেই হবে । বাড়ী থেকে ভালোকোন কাপড় পরতে দেয়নি,স্কুলে রেজাল্ট নেয়ার জন্য বড় ভাইয়ের সাইকেলটা চাইলাম কিন্তু দিলোনা । তারা ভাবছিল পাস করতে তো পারবোনা । পাছে সাইকেল বেচে উধাও হবো এই ভেবে।হেটে হেটে স্কুলে গেলাম,সেখানে ও এক ই পরিস্থিতির শিকার হলাম , ইংলিশ টিচার আমায় দেখে মূখ বাকা করে বল্লো তুই এখানে কেন ? তুই তো পাস করতে পারবি না।আমি বোবার মতো দাড়িয়ে থাকলা।আবার তিনি একই কথা শুনালেন।এবার গনিত স্যার মূখ খুল্লেন ।বল্লেন আমার বিশ্বাস রুপম পাস করেছে ।বলেই তিনি আমার রেজাল্ট সিটা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে রইলেন,অনেক্ষন কোন কথা নয় । এই ফাকে আমি বুঝে গেছি আমি পাস করতে পারিনি!দু চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে।তার পর মূহুত্বে স্যার বল্লেন কি রেতুই তো পাস করেছিস। তখন আমি তাকে জরিয়ে ধরে হাউ মাই করে কাদতে থাকলাম,তখন স্কুলে এক হৃথয়বিদারক ঘটনার অবতারনা হলো।রুম থেকে বের হয়ে আসছি পিছন থেকে এক স্যার বল্লো কিরে চাচ্ছিস তোর রেজাল্ট কি? হা করে তাকিয়ের ইলাম।আবার রুমে ঢুকলাম।তখন আমার বোকামির জন্য হাসি দিয়ে সবাই হাততালি দিল।আসলে আমার যে রেজাল্ট এত ভালো হবে তা আমিও ভাবতে পারি নি!বাড়ীতে আসার আগেই ঐ বড়ভাই যে কিনা বলেছিল তার সবচেয়ে খারাব ছাত্রের চেয়েও আমার রেজাল্ট খারাব হবে।তিনিই দুই প্যাকের মিষ্ট নিয়ে আমার আপেক্ষায় আছে।তার কাছেই জানতে পারলাম,তার সবচেয়ে ভাল ছাত্রের চেয়েও আমার রেজাল্ট ভাল।সেদিন আমি এ+ পাইনি ঠিকই কিন্তু আমার কাছে সেটা এ+ এর চাইতে কোন অংশে কম নয়
যাই হোক ছোট ভাই ও বোনেরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তোমাদের এসএসসি রেজাল্ট।রেজাল্ট যেই হোক তোমরা তা মাথা পেতে নিবে।মনে রাখবে তোমরা যাই লিখছো এই ফলাফলেই তোমাদের প্রাপ্য।এদানিং দেখছি রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই খারাব ফলাফলের জন্য নিজের মহামূল্যবান জীবন পর্যন্ত শেষ করছে।ভালো করতে চাইলে সামনে আর ও অনেক পরীক্ষা আছে,তখন আর ও বেশী করে চেষ্টা করবে।শোককে এখান থেকেই শক্তিতে রুপান্তরিত করতে শিখো।আর অবিভাবক দের বলছি আপনার সন্তান যে রেজাল্ট করেছে অনেক ভালো করেছে।তাদের কোন প্রকার গালিগালাজ করবেন না।আর তোমাদের বলছি শোন,রেজাল্ট বেড় হওয়ার পর যেন পেপারে বা টিভিতে না দেখি কেউ খারাব রেজাল্টের জন্য জীবন দিয়েছো । শোন এটটি ফলাফলের চেয়ে,একটি জীবনের মূল্য অনেক অনেক গুন বেশী ।
সকলের জন্য শুভকামনা রইলো ।


Comments
1 Comments

1 টি মন্তব্য:

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন। ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত দিতে ওয়েব সংস্করন দেখুন।ওয়েব সংস্করনে আরও অনেক কিছু অপেক্ষা করছে।আবারও আপনাকে ব্লগের পক্ষথেকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন সব সময়