views your Language

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৬

চাকরির পরীক্ষায় ব্যাংক ড্রাফ কেন?

বেকার সমস্যা যে কোন দেশ ও জাতির প্রধান সমস্যাগুলোর একটি। আর সেটা যদি হয় বাংলাদেশ তাহলে তো কথাই নেই। বিভিন্ন সূত্র মতে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। সংখ্যা দিয়ে খুব কম মনেহলেও বাস্তবে এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠি। পৃথিবীর সব দেশেই কম বেশি বেকার আছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেকাররা নির্যাতনের শিকার হয় বেশি!  বেকার বলতে আমরা কি বুঝি?  কাজ করতে ইচ্ছুক ও সক্ষম, যারা কাজ পায়না তাদের বেকার বলে। অর্থ্যাৎ কাজ করার ইচ্ছা ও শাররিক শক্তি আছে কিন্তু তারা কাজ পায় না, তারাই বেকার। একজন বেকার দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে হতাশ হয় না বরং তার মনোবল আরও দৃঢহয়। কিন্তু সরকার বেকারদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। যে ছেলেটা কাজের জন্য সারাদিন ছোটাছুটি করে ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতের চায়ের দোকানে বসে ভাবছে একটা চায়ের অর্ডার দেয়া যাক, পকেটে হাতদিয়ে দেখে মাত্র দুই টাকা কিন্তু চা তো তিন টাকা! তবে এদিকে সরকার বিভিন্ন সরকারি চাকরির জন্য শত শত টাক ব্যাংক ড্রাফ নামক অন্যায় চাপিয়ে দিচ্ছে। ভাবতে পারেন?  একজন বেকার যার পকেটে চা খাওয়ার জন্য তিনটাকা নাই, তারা কিভাবে আবেদন করবে। তবুও তারা শত কষ্ট করে একের পর এক আবেদন করেই যায়। আমি এমনও অনেক দেখেছি যারা পড়াশুনা শেষ করেছেন কিন্তু এখনো চাকরি করে না এমনকি কোন সরকারি চাকরির জন্য আবেদন পর্যন্ত করে না! এর কারন একটাই তাদের ব্যাংক ড্রাফ করার টাকা নাই! এখন আবার দেখছি বে-সরকারি চাকরির আবেদনেও ব্যাংক ড্রাফ করতে বলে!  আমি নিজের ভাষায় বিভিন্ন সরকারি চাকরির আবেদনে ব্যাংক ড্রাফকে নির্মম নির্যাতন বলে মনে করি। সবাই হয়তো ভাবছেন আমি পাগল নাকি?  হয়তো আপনারা ঠিকই ভাবছেন! একটা চারির জন্য হাজার হাজার আবেদন পরে। তাদের পরিক্ষা নিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়, সেটা কি সরকারের পক্ষে দেয়া সম্ভব? বিভিন্ন যায়গায় প্রশ্ন করে, উত্তর পেয়েছি আমাদের কাছ থেকে ব্যাংক ড্রাফ নামক নির্মম নির্যাতন করা হয় তা আসলে আমাদের পরীক্ষার ফি হিসেবে নেয়া হয়। ব্যাংক ড্রাফ করার সময়ও তাই পরীক্ষার ফি বাবদ লিখি। সেটাও অস্বিকার করছি না। কিন্তু পরীক্ষার ফি টা কাদের পিছনে খরচ হয়?  সেটাও উত্তর সবারেই জানা আমিও জানি, তবুও বলছি,সে টাকা টা বিভিন্ন ভাবে আমাদের পিছনেই খরচ হয়। যেমন ধরেন, আমাদের পরীক্ষা নেয়া, পরীক্ষার হলে যে সব শিক্ষরা গার্ড থাকেন তাদের সম্মানী ভাতা, যারা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন তাদের ভাতা। হয়তো ভাবছেন সবেই যদি যদি জানি তবে লেখার কারন কি?  না আপনার ধারনা এবার ভূল প্রমানিত হবে!  আসুন তবে সেটা কিভাবে খুলে বলা যাক...

আমাদের যারা পরীক্ষা নেয়, পরীক্ষার হলে গার্ড থাকেন, যারা ফলাফল মূল্যায়ন করেন, তারা কি আপনার আমার মতো আদু ভাই টাইপের বেকার?  না তারা সবেই সরকারের বেতন ভূক্ত কর্মকর্তা- কর্মচারি। সরকার প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেতন -ভাতা প্রদান করে। যেখানে একজন মানুষের সকল মৌলিক চাহিদা উল্লেখ করে বেতন নির্ধারন কারাহয়। সেখানে কেন তার বাড়তি টাকা দিতে হবে?  কেন আমাদের মতো বেকারদের টাকায় তাদের পকেট ভারি করতে হবে?  এটাকে কি বলা যানা 'দূর্বলের উপর সবলের নির্যাতন '?  যে টা আমার দাদা'র দাদা থেকে শুনে আসছি। অনেকে হয়তো যুক্তি দেখাতে পারেন, তারা তো কাজ করছে এটা তাদের কাজের পারিশ্রোমিক। ঠিকই বলেছেন, তারা কাজ করছেন, কিন্তু তারা কাজ করছেন ঠিকই তবে যেখানে তারা ফুলটাইম কাজ করে সেখানে যে ফাঁকি দিচ্ছে তার কি হবে? এবার হয়তো ভাবছেন, চাকরির সব পরীক্ষাই তো শুক্র বারেই হয়ে থাকে?  আর যারা ঐ সব পরীক্ষার দায়িত্বে থাকেন তারা তো সবেই শিক্ষক। তাহলে এবার শুনেন, যারা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকেন তারা সবাই শিক্ষক নয়!  আর যারা শিক্ষক তারা শুধু পরীক্ষার হলে গার্ড থাকেন। এর পরেও কথা আছে যে শিক্ষকরা গার্ড থাকেন তারা পরীক্ষার আগের দিন স্কুল বা কলেজে আসেন না ঐ একই বাহানায়, যে তাকে পরীক্ষার গার্ড থাকতে হবে। তাহলে তার ছাত্র - ছাত্রীদের যে ক্ষতি হলো তা পুষিয়ে দিবে কে?  সেটা কি আপনার আমার মতো বেকারদের গুরু দায়িত্ব?  সেটাতো অপুরনিয় ক্ষতি। আর যারা ফলাফল মূল্যায়ন করেন তারা সবাই শিক্ষক নাও হতে পরে। আর শিক্ষক হলেও তারাও স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ফলাফল মূল্যায়ন করে আর সেই স্কুল কলেজকে সেটা অজুহাত দিসেবে দেখাই। সাধারনত মানুষের দু'টি হাত আছে বলে জানি, কিন্তু ডান হাত বাম হাত ছাড়াও অজুহাত নামে মানুষের আরও একটা হাত আছে! 

আমি ব্যাংক ড্রাফ বা পরীক্ষার ফি নেয়ার ব্যাপারে ঘোর বিরোধী নই। তবে এর পরিমানটা কমানোর পক্ষে, আর তা না হলে ঐ টাকাটার যেন সদব্যবহার হয় মানে পরীক্ষার খাতা বাদে যে টাকা অবশিষ্ঠ থাকে তা যেন সরকারের কোন উন্নয়ন কাজে যা জনগনের কল্যাণে ব্যায় করা হয়।  একটা পরীক্ষার জন্য পাচশত টাকা ফি নেয়াটা অযোক্তিক নয় বেআইনি  অন্যায় নিরর্যাতনও বটেই। আর যে পরীক্ষা কিনা দুইটা কাগজেই নেয়া হয়। একটা প্রশ্ন পত্র আর একটা উত্তর পত্র বা ওএমআর। তবে কেন কাদের স্বার্থে একটা পরীক্ষার জন্য এতো টাকা ফি নেয়াহয়?  ঐ একই কারনে পিএসসি,জেএসসি,জেডিসি,এসএসসি,দাখিল,এইচএসসি, আলিম,ডিগ্রী,ফাজিল,অনার্স,কামিল পরীক্ষার ফি ও কমানো উচিত।

Comments
2 Comments

২টি মন্তব্য:

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন। ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত দিতে ওয়েব সংস্করন দেখুন।ওয়েব সংস্করনে আরও অনেক কিছু অপেক্ষা করছে।আবারও আপনাকে ব্লগের পক্ষথেকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন সব সময়